• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

হত্যা নয়, কারাগারে ‘আত্মহত্যা’ করেন আইনজীবী পলাশ

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৮৯

 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট/বাংলারজমিন২৪

কারাগারে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে হত্যা নয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পলাশকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে আদালত বলেন, ‘আপাতভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

শুনানিতে প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, পলাশের গায়ে আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টা পর তার চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়। দাপ্তরিক ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য অনেকটা সময় যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত বলেছেন যে, যদি ২৪ ঘণ্টার কমে তার চিকিৎসা শুরু করা যেত আমরা জানিনা সে বাঁচতো কিনা কিন্তু উচিত ছিল আগুনে পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করানোর দরকার ছিল। আগে চিকিৎসা পরে দাপ্তরিক কাজ।’

শুনানি নিয়ে এই বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজি প্রিজন বরাবর পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পঞ্চগড় কারাগারে নিরাপত্তা ও কারা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে যে অভিযোগ বিচারিক প্রতিবেদনে এসেছে, সে ব্যাপারে এই দুই কর্মকর্তাকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

চলতি বছরের ২৫ মার্চ পঞ্চগড়ে একটি মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তির অভিযোগে তাকে আটক করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

পরে ২৬ এপ্রিল বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী পলাশকে ঢাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ কারাগার হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে সে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌড়ে বের হয়।

এ সময় কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে এবং শরীরের আগুন নেভায়। আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে ৩০ এপ্রিল দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

‘তাকে হত্যা করা হয়েছে’- এই অভিযোগে ‘ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিল’ ব্যানারে হাইকোর্টে বিক্ষোভ করে আইনজীবীরা। পরিবার ও সহকর্মীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পঞ্চগড় কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে আইনজীবী পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় গত ৬ মে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৮ মে হাইকোর্ট পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে পঞ্চগড়ের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..