• বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও ভালুকায় পেনশন ভোগকারীদের স্বজনরা মাসিক পেনশন পাচ্ছেন না 

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৮১
মোঃ মজনু মিয়া /বাংলারজমিন২৪
ভালুকা প্রতিনিধি,ময়মনসিংহঃ সরকারি নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জারি থাকার পরও ময়মনসিংহের ভালুকায় মাসিক পেনশন পাচ্ছেন না ‘শতভাগ পেনশন ভোগকারীদের’ পাঁচ বিধবা স্ত্রীরা। এ অস্বাবিক কারণে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুধু তাই নয়,অজ্ঞাত কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত হওয়ায় পেনশন ভোগকারীদের বিধবা স্ত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছেন শতভাগ পেনশন পাওয়া থেকে।
প্রজ্ঞাপণে উল্লেখ রয়েছে,‘সরকারি কর্মচারী থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের পুরো টাকা যাঁরা তুলে নিয়েছিলেন, তাঁরাও মাসিক পেনশন পাবেন। শুধু তা-ই নয়, প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্টও (বার্ষিক বৃদ্ধি) পাবেন তাঁরা’। গত বছরের (৮ অক্টোবর)এই সিদ্ধান্ত দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন (০৭.০০.০০০০.১৭১.১৩.০১৩.১৪.১১৮) জারি করেছিলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অবসরে যাওয়া সরকারি চাকুরীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। পরে (২০১৭ সালে ০১ জুলাই) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিলো, ‘শতভাগ পেনশন ভোগকারী, অর্থাৎ যেসব সরকারি কর্মচারী পেনশনের পুরো টাকা তুলে নিয়েছেন, অবসরের তারিখ থেকে পনের বছর পার হলে তাঁরা আবার মাসিক পেনশন পাবেন। এমন সিন্ধান্ত থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে ভালুকার পাঁচ জন সরকারি চাকুরীজীবির বিধবা স্ত্রীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
‘শতভাগ পেনশন ভোগকারী’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভালুকা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভালুকা ভরাডোবা ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত আব্দুল রাজ্জাক, উপজেলা হিসাব রক্ষক পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত খন্দকার আব্দুল বারী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভালুকা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ইব্রাহিম খলিলুল্লার পরিবার সরকারের ওই ঘোষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মর্মে প্রতিবেদককে  জানিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য সুবিধা বঞ্চিতরাও এ বিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষক কার্যালয়ে আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোন শুরু হয়নি।
ভালুকা উপজেলা ডাকাতিয়া ইউনিয়নের তালুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ উম্মে সালমা কল্পনা বলেন, আমার স্বামী (১৯৯৯ সালে) স্বেচ্ছায় চাকুরি থেকে অবসরে যান। আমাদের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শতভাগ পেনশন ভোগকারী’ পরিবারদের পুনঃরায় মাসিক পেনশন পাওয়ার সুযোগ করে দেন। কিন্তু আমরা মাসের পর মাস সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরাঘুুরি করেও এর কোন প্রতিকার পাচ্ছিনা। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ভালুকা উপজেলা ভরাডোবা ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী রওশন আরা বেগম বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার স্বামী চাকুরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের পুরো টাকা তুলে নিয়েছিলেন। আমার স্বামী জীবিত থাকার সময় ও মৃত্যুর পর আমি পবিবার নিয়ে খুব কষ্ট জীবিকা নির্বাহ করছিলাম। গত বছর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পর আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আমরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এ টাকাটা পেলে আমরা খুবই উপকৃত হবো।
ভালুকা উপজেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল বাতেন এর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে , তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
ভালুকা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..