• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

কেমন আছেন নায়ক রাজের লক্ষী?

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯
  • ২৭৮

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট/বাংলারজমিন২৪

স্বামী ছিলেন বাংলাদেশের এক নম্বর তারকা। কিন্তু তিনি নিজে সব সময় আড়ালে থেকেছেন। সেভাবে কখনোই সংবাদমাধ্যমে আসেননি। নায়ক রাজ রাজ্জাক চলে গেছেন জীবনের ওপারে। তবে তাঁর জীবনের গল্পগুলো থেকে গেছে।

কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আসেন ১৯৬৪ সালে। বাপ্পারাজের বয়স তখন আট মাস। ঢাকায় এসে উঠলেন কমলাপুর ঠাকুরপাড়ায়। নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ। শুরুতে এ জন্য অনেক সমস্যা হয়েছিল। অবশ্য আস্তে আস্তে সব ঠিকও হয়ে যায়। নায়ক রাজের জীবনের সত্যিকারের হিরো তার স্ত্রী। শুরুতে ছোটখাটো চরিত্র, সংসারে টানাপোড়েন। তবে হাল ছাড়েননি রাজ্জাক, হাল ছাড়তে দেননি লক্ষী। তিনি বলেন,‘আমিও মনে-প্রাণে চাইতাম, ও যেন চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা পায়। ছবিতে অভিনয় করার আগে ও আমাকে প্রায়ই বলত, চলচ্চিত্রে কাজ করতে গেলে অনেক মেয়ের সঙ্গে মিশতে হবে, অভিনয় করতে হবে, তখন তুমি কিছু মনে করবে না তো। আমি বলেছিলাম, না, কিছুই মনে করব না। তুমি কাজ শুরু করো। সে বলল, সংসারের এত ঝামেলা, আমি ব্যস্ত হয়ে গেলে তুমি এসব কীভাবে সামলাবে? আমি বললাম, এসব নিয়ে তুমি কিছু ভেবো না।’

নায়ক রাজ্জাকের যখন নাম ডাক শুরু হলো। তখন তাদের বাসা ছিল ফার্মগেটের হলিক্রস স্কুলের পাশে। লক্ষী বলেন,‘তখন অনেক মেয়ে বাড়িতে আসত ওর সঙ্গে দেখা করতে, অটোগ্রাফ নিতে। দেখতাম, ভক্তরা ওর কাপড় ছুঁয়ে দেখছে, জুতো ছুঁয়ে দেখছে। তাকে জড়িয়ে ধরছে। দেখতাম, কিন্তু কিছুই বলতাম না। আমি কখনোই তার কোনো কিছুতেই বাধা দিতাম না। বরং তাকে সাহস দিতাম। তারপর স্বাধীনতার আগে নিজেরা গুলশানের এই জায়গা কিনলাম। নিজেদের বাড়িতে (লক্ষ্মীকুঞ্জ) উঠলাম। এখনো এই বাড়িতে আছি।’

মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে। কলকাতায় টালিগঞ্জে লক্ষীরা যে বাড়িতে থাকতেন, ঠিক সেই বাড়ির পাশেই ছিল রাজ্জাকের এক আত্মীয়র বাসা। একদিন বাড়ির গেটের সামনে দাড়িয়েছিলেন লক্ষী, তখন রাজ্জাকের পরিবারের কেউ দেখে ফেলে। তারপরই আসে বিয়ে প্রস্তাব। যেদিন দেখতে আসে সেদিনেই আংটি বদল। এর দুই বছর পর বিয়ে।

রাজ্জাকের সিনেমার বড় সমালোচক তার স্ত্রী লক্ষী। সিনেমা হলে গিয়ে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ ছবিটি প্রথম দেখেছেন। ছবি দেখার সময় কোথাও ভালো না লাগলে সমালোচনাও করতেন। কবরীকে জড়িয়ে নানা কথা উঠলো। রাজ্জাক- কবরী জুটি ভেঙ্গে গেল। একসঙ্গে আর ছবি করছে না। একদিন লক্ষী মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করলো আর একসঙ্গে ছবি করছো না কেন? কি হয়েছে তোমাদের মধ্যে? রাজ্জাক তখন একটি কথাই বললেন,‘ এসবের মধ্যে তুমি এসো না।’ দ্বিতীয় আর কোন কথা জিজ্ঞেস করেননি লক্ষী। যদিও রাজ্জাক-কবরী পরবর্তীতে আবারও সিনেমা করেছেন।

রাজ্জাককে হিরো ডাকতেন লক্ষী। এখন সবচেয়ে মিস করেন আগে খাটাখাটনি করে ঘরে ঢুকেই ‘লক্ষী’ বলে ডাক দিয়ে কিছু চাইতো। আমি তখন তার পিছু নিতাম। সে সারা ঘর ঘুরতো। আর আমি তার পিছনে থাকতাম।

বড় ছেলে বাপ্পা আর মেজ ছেলে বাপ্পী নিজেরাই পছন্দ করে বিয়ে করেছে। ছোটছেলে সম্রাটের বিয়ে রাজ্জাক নিজে মেয়ে পছন্দ করে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন ভোরেই গুলশান পার্কে হাটতে যেতেন রাজ্জাক। একদিন বাড়ি এসে বললেন, হাঁটতে গিয়ে একটি মেয়েকে দেখেছে। ভারী সুন্দর! নিজে হাতে মেয়ের ছবিও তুলে এনেছে। সেই ছবি স্ত্রীকে দেখাল। ময়মনসিংহের মেয়ে। মামার বাড়ি বেড়াতে এসেছে। হিরোর ইচ্ছে, মেয়েটিকে সম্রাটের বউ করবে। তারপর মিষ্টি ও স্ত্রীকে নিয়ে মেয়ের মামার বাড়ি গেলেন। লক্ষীও সায় দিলেন।

রাজ্জাকের সঙ্গে তেমন তাকে বাইরে দেখা যেত না। এর কারণটা জানালেন,‘ সে আমাকে বাইরে নিয়ে যেতে চাইতো, কিন্তু আমার ইচ্ছে হতো না। ঘরে থাকতেই পছন্দ করি। আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতেও তেমন যাই না। কলকাতায় বাবার বাড়ি। সেখানেও নিয়মিত যাওয়া হয় না। কয়েক বছর পরপর যাই। একসময় ওর সঙ্গে মার্কেটে যেতাম, তখন ওর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মার্কেটে গেলে দেখতাম ওর অসংখ্য ভক্ত ওকে ঘিরে ধরেছে। আমি ছেলেমেয়ে নিয়ে তখন দীর্ঘসময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। তখন ছেলেমেয়েরা প্রায়ই বলত, আব্বুর সঙ্গে আর মার্কেটে যাব না।’

রাজ্জাকের রাগটা শেষ জীবনে একটু বেড়েছিল। আর এই রাগটা ছেলেদের উপরই বেশি ঝাড়তেন। ছেলেরা যখন তাকে না বলে বের হতেন বা দেরি করে কোনদিন বাসায় ফিরতেন, তখন রেগে যেতেন। সে কোনমতেই বুঝতে চাইতেন না ছেলেরা বড় হয়েছে।

অনেকেই তার স্ত্রী লক্ষীকে হিন্দু মনে করেন। আসলে তা নয়, তার আসল নাম খায়রুন্নেসা। বাবা আদর করে তাকে ‘লক্ষী’ বলে ডাকতেন। তার জন্মের পর বাবার ব্যবসায় অনেক উন্নতি হয়েছিল বলে লক্ষী বলে ডাকতেন।

এখন সময়টা ছেলের বউ, নাতি-নাতনিদের নিয়ে কাটে। তিনি বলেন,‘সবমিলে আল্লাহর রহমতে সুখে-শান্তিতে আছি। ছেলে ও ছেলেদের বউরা যথেষ্ট শ্রদ্ধা করে। শুধু তিনি নেই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..