• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

গোবিন্দগঞ্জে চা খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলি শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৭৫

 

আশরাফুল ইসলাম/বাংলারজমিন২৪

 

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে প্রতিনিয়ত মানুষ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষ হত্যা করছে। একদল নরপিচাশ আর এতে করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ উপজেলার জনগণ ছোট খাটো কলহের জেরে একে অপরকে পিটিয়ে হত্যা করছে।গত তিন দিনে এ উপজেলায় পৃথক পৃথক তিনটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটনা ঘটলো।

গত ১৭ আগষ্ট শনিবার এ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছোটপুত্র ইসরাইল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই ইসমাইলকে ছুরির আঘাত করে হত্যা করে।

পরেরদিন ১৮ আগষ্ট রবিবার উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র কাঁঠালবাড়ী মোস্তাফিয়া,সিনিয়র আলীম মাদ্রাসার ছাত্র রাহাত ও (১৪)একই গ্রামের খয়বর আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম এর সাথে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথার কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাহাতকে রফিকুল ও তার সহযোগী কয়েকজন পিটিয়ে হত্যা করে।
এদিকে তৃতীয় দিন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চা খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটিতে দ্বন্দে আহত আকালু মিয়া নামে এক কুলি শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল ১৯ আগষ্ট সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর মিলেছে।

নিহত আকালু গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের প্রধানপাড়ার মৃত্যু কছোর আলীর পুত্র। সে গোবিন্দগঞ্জ থানা মোড় চৌরাস্তায় গাড়ি থেকে মালামাল উঠানো নামানো অর্থাৎ কুলি শ্রমিকের কাজ করতো।

নিহতের পারিবারিক ও প্রত্যক্ষর্শী সুত্রে জানা যায় গত ১৭ আগষ্ট শনিবার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের হীরকপাড়া এলাকার কতিপয় দূর্বৃত্ত যুবকের সাথে চা খাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকটির এক পর্যায়ে দূর্বৃত্তরা আকালুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আকালুকে বগুড়া টি এম এম এস মেডিক্যালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করায় তার পরিবার।উক্ত মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ১৯ আগষ্ট সন্ধ্যায় আকালু মৃত্যুবরণ করেন।

এ সকল বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জের সচেতন মহলের দাবী গোবিন্দগঞ্জে মাদকের বিস্তারের ফলে মাদকাসক্ত বেড়ে গেছে ফলে মাদকাসক্তরা তুচ্ছ ঘটনাতেই মানুষ হত্যাকান্ডের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে।কারণ মহিমাগঞ্জ বড় ভাইকে খুনের ঘটনায় ছোট ভাই ঘাতক ইসরাইল মাদকাসক্ত ছিল এমন অভিযোগ উঠে এসেছে এদিকে আকালুকে পিটানো যুবকরাও মাদকাসক্ত এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। এমন্তাবস্থায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত করতে হলে মাদককে দমন করতে হবে।

এ সকল অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, মহিমাগঞ্জের গোপালপুরের ইসমাইল হত্যাকান্ড ও কাটাবাড়ীর কাঁঠালবাড়ী গ্রামের রাহাত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে আকালু হত্যার লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এসকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কেউই রেহাই পাবে না।তিনি আরও জানান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।গোবিন্দগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি নিশ্চিত করতে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ বদ্ধপরিকার।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..