• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

কোরবানির পশুর হাট রাজধানীর অভিজাত পাড়া-মহল্লায়

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৭৬

বাংলারজমিন২৪/অনলাইন প্রতিনিধি-

রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা জমে উঠতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্রির জন্য গরুআনা হচ্ছে। বাঁশের সঙ্গে সারি সারি বেঁধে রাখা হয়েছে ছোট, মাঝারি ও বড় আকৃতির গরু। প্রখর রোদেও গারর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ব্যাপারি। কেউ গরুর যত্ন করছেন। কেউ কেউ অলস সময় পার করছেন। হাটে পাড়া মহল্লায় পর্যাপ্ত পশু আছে, তবে ক্রেতার দেখা নেই। ক্রেতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পশু ব্যবসায়ীরা।

দেখতে ভেড়ার মতো তবে আকারে কিছুটা বড় ও উঁচু। আবার প্রথমে দেখায় মরু অঞ্চলের দুম্বার মতো মনে হয়। তবে পিছনের দিকে দুম্বার মতো বাড়তি মাংস নেই। প্রাণীটির নাম গাড়ল। আমাদের দেশে খুব পরিচিত না হওয়ায় এদের চিনতে ভুল করে মানুষ।গাবতলী পশুর হাটে গরু ছাগলের পাশাপাশি বর্তমানে দেশীয়ভাবে পালন করা গাড়লের চাহিদা ভালোই। মূলত অবস্থাসম্পন্ন সৌখিন মানুষই গাড়ল কোরবানি দেন বলে জানা যায়।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাড়ল মূলত মরু অঞ্চলের উন্নত জাতের ভেড়ার একটি প্রজাতি। বর্তমানে মেহেরপুর, রাজশাহী, গাজীপুরসহ দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে গাড়ল পালন করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জিনাত সুলতানা গাড়ল প্রসঙ্গে বলেন, গাড়লের মাংস পুষ্টিমান সমৃদ্ধ। অন্য মাংসের তুলনায় গাড়লের মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকায় সবাই এ মাংস খেতে পারেন। এছাড়া মাংস ভালোই সুস্বাদু।

গাবতলীর পশুরহাটের গাড়ল পালক ও বিক্রেতা মো. শিবলু বলেন, একটি বড় গাড়লের এক থেকে দেড় মণ মাংস হয়। মাংস খেতেও সুস্বাদু। দেড় মণ ওজনের একটি গাড়লের দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

হাটের ইজারাদারদের পক্ষ থেকে মাইকে বলা হচ্ছে, কোনো সমস্যা হলে তাদের জানাতে। পশু বিক্রি করলে যেন ঠিকমতো হাসিল পরিশোধ করা হয়, সেজন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে জমে উঠেছে রমরমা পশুর হাট। রাজধানী ঘুরে দেখা যায় ধানমন্ডি ৩০ থেকে ২৭ এর ফুটপাত ধরে ঘাসি ছাগলের বিশাল সমাগম মানুষের । কলাবাগান , শুক্রাবাদ , সোবহানবাগ কলোনী, হাতিরপুল, বসুন্ধধরা সিটির সামনে, জাতীয় সংসদের দক্ষিনে মানিক মিয়া এ্যাভিনিউর সামনে রাস্তার দুপাশে,মীরপুরসহ সারা ঢাকা শহরেই পশুর হাট বসছে পাড়া মহল্লায়। তবে গরু চেয়ে ঘাসি ভেড়া, গারর দেখা যায় চোখে পড়ার মত।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা তিন-চার দিন আগেই এ হাটে এসেছিলেন। বেশিরভাগ বিক্রেতাই হাটে বিক্রি করতে পারেননি। তবে কোনো কোনো বিক্রেতা একটি বা দুটি বিক্রি করেছেন। তবে তারা আশা করছেন, আজ রোববার (১১ আগষ্ট ) পাড়া মহল্লায় সকাল থেকে রাত অবধি পুরোদমে বিক্রি হবে।

ফরিদপুর থেকে ধানমন্ডি ৩০ এ নিয়ে এসেছেন ঘাসি আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘তিন দিন হলো হাটে এসেছি। হাটে আশানুরুপ ক্রেতা পাচ্ছি না তাই ধানমন্ডি চলে এসেছি ।’ তার ২০টি খাসির মধ্যে দুটি বিক্রি করেছেন আজ সকালে ৩০ হাজার টাকায়। অন্যগুলো ১৫ হাজার থেকে ২৬ টাকা পেলেই বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।

নরসিংদী থেকে তিনজনে নিয়ে এসেছেন ৫০ থেকে ৭০ টি খাসি নিয়ে এসেছেন মানিক মিয়া। তিনি বলেন, চার দিন আগে এসেছি। এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি খাসি বিক্রি করেছি। হাটে বিক্রি করতে না পারায় তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকাকে বেছেনিয়েছেন কোরবানীর পশু খাসি বিক্রয়য়ের জন্য। আশা করছি, আজ বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে এবং রাতেই নরসিংদী ফিরো যাবেন।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি তার এলাকা থেকে ৩০টি খাসি কিনে এনেছেন বিক্রি করার জন্য। এর মধ্যে একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। তবে আশা করছেন, দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি করতে পারবেন। কারণ অনেকে লালন পালনের জন্য এবং বাসা বাড়ী নোংরা হবে , তার চেয়ে সত্য পালার কেউ না থাকায় আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর স্থানীয়রা কোরবাণীর জন্য পশু ক্রয় করবেন । তার আশা সে ভাল ব্যাবসা করবেন ।

কলাবাগান বসুন্ধরা ঘুরে – দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরু বেশি এসেছে। বড় আকৃতির গরু খুব একটা নেই। গরুর মালিকেরা গরু প্রতি দাম হাকছেন ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। অল্প কিছু ছাগলও দেখা গেছে। এগুলোর দাম ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..