• রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

সুস্থ থাকুন

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯
  • ৫৭ বার পঠিত

পরিবার ও চারপাশের মানুষকে সুস্থ রাখতে বাড়ির গাছপালার টবে জমে থাকা পানি, আগাছা পরিষ্কার করুন। মডেল: জাকির হোসেন, অধরা, তানভীরা আশরাফ ও রিভু। ছবি: সুমন ইউসুফ

সামনেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ। এখন আবার দেশজুড়ে চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সে কারণে এই ছুটির সময়ে নিজের বািড় ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মাংস কাটাকাটির পর চারপাশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। তাই একে হালকাভাবে নেওয়া উচিতও নয়। বৃষ্টির দিনে কোরবানির আবর্জনা এখানে-সেখানে ফেলে রাখলে ময়লা জমে দুর্গন্ধ বের হয়ে পরিবেশ দূষিত করে জীবাণু ছড়াতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এই সময়ে এডিস মশার প্রভাব বেশি, যার ফলে ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে। তবে এই মশা এসব ময়লা–আবর্জনায় ডিম পাড়ে না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মুরাদ হোসাইন বলেন, কোথায় কোরবানি দেওয়া হবে, কোরবানির পর রক্ত, অন্যান্য বর্জ্য কীভাবে সরানো হবে, সে পরিকল্পনা আগে থেকেই করা উচিত। কোরবানির পরপরই রক্ত ধুয়ে পাশের নর্দমায় ফেলে দিতে হবে বা রক্ত মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। অন্যান্য বর্জ্যও যত্রতত্র না ফেলে অতি দ্রুত যথাযথ স্থানে ফেলতে হবে। তাহলে পরিবেশদূষণ হতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

কোরবানির আগে-পরে পরিচ্ছন্ন থাকুন

নিজের সুবিধার জন্য যত্রতত্র পশু কোরবানি না করে কর্তৃপক্ষ–নির্দেশিত স্থানে করলে সহজেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা যায়। অনেকেই বাড়ির নিচে রাস্তার পাশে কোরবানি করেন। খেয়াল রাখতে হবে রক্ত গড়িয়ে যেন রাস্তায় না যায়। এখন সব শহরই কংক্রিটের জনপদ। গ্রামে প্রতিটি বাড়ির আঙিনা থাকে। সেখানে কোরবানির পশু জবাই করা হলে সব রক্তই মাটি শুষে নিতে পারে। কোরবানির বর্জ্যও সহজেই মাটির নিচে পুঁতে ফেলা সম্ভব। আগে যেখানে একটি পরিবার বাস করত, এখন সেই বহুতল ভবনে অনেক পরিবার বাস করে। ফলে অল্প জায়গায় অনেক কোরবানি হয়। যার বর্জ্যও অনেক হয়। আবার সহজে পুঁতেও ফেলা যায় না। তাই সবাই যদি সচেতন না হয়, তাহলে কোনোভাবেই তাড়াতাড়ি বর্জ্য অপসারণ সম্ভব না এবং অপরিকল্পিত এই বর্জ্য পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই যথাযথ স্থানে কোরবানি করতে হবে।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ঠিক রাখুন

মাংস কাটাকাটি ও ভাগ-বাঁটোয়ারা, বিলি–বণ্টনের সময় শরীরের নানা অংশে, কাপড়ে ও ঘরের মেঝেতে রক্ত লেগে যেতে পারে। এভাবে খুব বেশি সময় পর্যন্ত রক্ত বা আবর্জনা লেগে শুকিয়ে গেলে তা পরিষ্কার করতে সমস্যা হয়। দীর্ঘ সময় শুকিয়ে ত্বকে লেগে থাকলে চুলকানি এবং ত্বকের অন্যান্য সমস্যাও হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব যেকোনো সাবান দিয়ে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন।

ঈদে আনন্দে কাটাতে সুস্থতা জরুরি। এজন্য গুরুত্ব দিন পরিচ্ছন্নতায়।বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুনাহার বলেন, এভাবে ময়লা খাবারের সঙ্গে পেটে চলে গেলে পেটের পীড়াও হতে পারে। এ ছাড়া মাছি, তেলাপোকাসহ অন্যান্য পোকামাকড় আকৃষ্ট হতে পারে। সেখান থেকে নানা অসুখ হতে পারে।

সাবধানতার সঙ্গে কাজ করুন

সামান্য অসাবধানতায় যেন ঈদ মাটি হয়ে না যায়, সে জন্য সাবধানে কাটাকাটির কাজ করতে হবে। তুলা, ব্যান্ডেজ ও জীবাণুনাশক তরল বা ক্রিম হাতের কাছেই রাখুন। হাতের নখ ছোট করে কাটাকাটি করুন, না হলে বড় নখ ভেঙে যেতে পারে এবং আঘাত পেতে পারেন আঙুলেও।

লেখক: চিকিৎসক

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..